Monday, July 4, 2011

Virus-Antivirus সম্পর্কে জানুন

কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের কাছে কম্পিউটার ভাইরাস একটি পরিচিতি। কখনো না কখনো এর আক্রমনের শিকার হতে হয়েছে সবাইকে। ডাটা মুছে যাওয়া থেকে শুরু করে হার্ডঅয়্যার নষ্ট হওয়ার ঘটনা বহু ঘটেছে। ভইরাস আসলে কি, কিভাবে কম্পিউটারে যেতে পারে, কি ক্ষতি করতে পারে, কিভাবে ভাইরাসমুক্ত থাকা যায় এসব জেনে নিন।
ভাইরাস এক ধরনের সফটঅয়্যার। প্রোগ্রামাররা অন্যান্য সফটঅয়্যার যেভাবে তৈরী করেন সেভাবেই ভাইরাস সফটঅয়্যার তৈরী করা হয়। পার্থক্য, এগুলি তৈরী করা হয় ক্ষতিকর কাজের জন্য, এগুলি আকারে খুব ছোট ফলে পৃথক ফাইল হিসেবে দেখা যায় না বা চেনা যায় না, অন্য কম্পিউটার ফাইলের সাথে লেগে থাকে, এগুলি নিজে থেকে কপি হয়। এক ফাইল থেকে অন্য ফাইলে, এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে। অনেকটা রোগ ছড়ানোর মত। সেকারনেই নাম ভাইরাস।
সাধারনভাবে সব ক্ষতিকর সফটঅয়্যারকে ভাইরাস বলা হলেও কাজের ধরন অনুযায়ী অনেক সময় পৃথকভাবে নাম ব্যবহার করা হয়। যেমন malware, adware, spyware ইত্যাদি। এছাড়া এদের মধ্যেও নানারকম ভাগ রয়েছে। যেমন কম্পিউটার ওয়ার্ম, ট্রোজান হর্স, রুটকিট ইত্যাদি।
এদের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে, সকলেই সাধারন ভাইরাসের মত নিজে থেকে কপি হতে পারে না, কোনটি বিরক্তি তৈরী করলেও ক্ষতি করে না।
এখানে কিছু শব্দের ব্যাখ্যা উল্লেখ করা হচ্ছে;
মালঅয়্যার : মুলত ক্ষতিকর সফটঅয়্যার। ভাইরাস থেকে এদেরকে পৃথক করা হয় কারন এগুলি ক্ষতিকর হলেও ভাইরাসের সফটঅয়্যার বা ডাটা নষ্ট করে না।
ওয়ার্ম : মুল ভাইরাস এগুলিই। কম্পিউটারের প্রোগ্রাম, ডাটা ফাইল মুছে দিতে পারে, কাজের গতি কমে যেতে পারে, এমনকি হার্ডঅয়্যার নষ্ট করতে পারে। এছাড়া এক কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রন নেটওয়ার্কের অন্য কম্পিউটারের কাছে দিতে পারে।
ট্রোজান হর্স : নামটি নেয়া হয়েছে ট্রয়ের যুদ্ধে ব্যবহৃত কাঠের ঘোড়া থেকে, যারমধ্যে কিছু সৈন্য লুকিয়ে ছিল। এইগুলি স্বাভাবিকভাবে কাঠের ঘোড়ার মত নিশ্চুপ থাকে, অর্থাত কম্পিউটারে থাকলেও কোন কাজ করে না। বিশেষ তারিখে বা বিশেষ কোন একটিভ হয় এবং ক্ষতিকর কাজ করতে শুরু করে।
স্পাইঅয়্যার : এগুলি কম্পিউটারে অবস্থান করে নানারকম তথ্য সংগ্রহ করে এবং সেগুলিকে নির্মাতার কাছে পাঠায়। যেমন আপনি কোন পাশওয়ার্ড টাইপ করলে ঠিক কি টাইপ করেছেন সেটা রেকর্ড করতে পারে। এভাবে ক্রেডিট কার্ডের নাম্বার সহ অন্যান্য তথ্য স্পাইঅয়্যার নির্মাতার হাতে যেতে পারে।
এডঅয়্যার : মুলত ইন্টারনেটের বিজ্ঞাপন প্রচার করে। আপনার কম্পিউটারে ভাইরাস রয়েছে, এন্টিভাইরাস কিনুন এধরনের কথা বলে একটি লিংক দেখাতে পারে।
স্প্যাম : স্প্যাম ভাইরাসের মত ক্ষতি করে না। বরং এর মাধ্যমে আপত্তিকর বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়।
ভাইরাস কিভাবে ছড়ায়
সব ধরনের ভাইরাসই অন্য কোন ফাইলের সাথে ছড়ায়। কাজেই সিডি-ডিভিডি বা ইউএসবি ড্রাইভে ফাইল কপি করলে তারসাথে এগুলি ছড়াতে পারে। ইন্টারনেট বা নেটওয়ার্কে থাকা কম্পিউটারের ক্ষেত্রে এক কম্পিউটার থেকে সহজে আরেক কম্পিউটারে যেতে পারে।
কিভাবে সাবধান থাকতে পারেন
.          যে কোন ফাইল ব্যবহার না করে ভাইরাস থেকে সাবধান থাকতে পারেন। বিশেষ করে পাইরেটেড সফটঅয়্যার, গেম ইত্যাদি। প্রোটেক্টেড  সফটঅয়্যার ব্যবহারের জন্য হ্যাকাররা যে কি-জেনারেটর বা প্যাচ তৈরী করে সেখানে ভাইরাস থাকার সম্ভাবনা খুবই বেশি।
.          ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় ভাইরাস থাকতে পারে এমন সাইট থেকে দুরে থেকে ভাইরাসের আক্রমন থেকে বাচতে পারেন। সাধারন নামকরা সাইটগুলি নিজেদের সাইট ভাইরাসমুক্ত রাখে, অন্যদিকে পাইরেসি, হ্যাকিং, পর্নোগ্রাফি ইত্যাদি সাইট থেকে ভাইরাস আক্রমনের সম্ভাবনা বেশি।
.          এন্টিভাইরাস সফটঅয়্যার ব্যবহার করে ভাইরাসমুক্ত থাকতে পারেন।

এন্টিভাইরাস
এন্টিভাইরাস এক ধরনের সফটঅয়্যার। সাধারন সফটঅয়্যার এবং ভাইরাস ফাইলের মধ্যে যে পার্থক্য সেগুলি এরা শনাক্ত করতে পারে এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে। অনেক সময় ভাইরাস মুক্ত করে ফাইলকে স্বাভাবিক অবস্থায় আনতে পারে, সেটা সম্ভব না হলে ভাইরাস সহ ফাইলটি মুছে দেয়।
ভাইরাস স্ক্যান : কম্পিউটারে ভাইরাস আছে কিনা যাচাই করার পদ্ধতি। এন্টিভাইরাস চালু করে কম্পিউটারের প্রতিটি ড্রাইভ থেকে প্রতিটি ফাইল চেক করা।
ভাইরাস গার্ড : এক ধরনের এন্টিভাইরাস প্রোগ্রাম। চালু করলে এগুলি কম্পিউটারের মেমোরীতে থাকে এবং প্রতিটি ফাইল ওপেন/কপি করার সময় সেখানে ভাইরাস আছে কিনা দেখে নেয়।
ফায়ারওয়াল : মুলত ইন্টারনেট থেকে যেন ভাইরাস কম্পিউটারে ঢুকতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখে।
বর্তমানের অধিকাংশ এন্টিভাইরাস সফটঅয়্যারে ভাইরাস স্ক্যান, ভাইরাস গার্ড এবং ফায়ারওয়্যার সহ এন্টিস্পাইঅয়্যার, এন্টিমালঅয়্যার ইত্যাদি বিভিন্ন ফিচার থাকে।

এন্টিভাইরাস সফটঅয়্যার
এন্টিভাইরাস সফটঅয়্যারের দুটি অংশ থাকে। একটি মুল এন্টিভাইরাস সফটঅয়্যার বা ইঞ্জিন অপরটি ভাইরাস ডেফিনিশন, যেখানে প্রতিটি ভাইরাসের নির্দিষ্ট তথ্য থাকে। প্রতিদিন যেমন নতুন ভাইরাস তৈরী হয় তেমনি সবসময়ই নতুন ভাইরাস ডেফিনিশন তৈরী করা প্রয়োজন হয়। নতুন ভাইরাস ডেফিনিশন আপডেট হিসেবে পাওয়া যায়। এই আপডেট ব্যবহার করে সবশেষ ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
আপডেট দুভাবে ব্যবহার হতে পারে। সাথারন ফাইল ইনষ্টল করে, অথবা ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিজে থেকেই। বর্তমানের অনেক এন্টিভাইরাস নির্মাদা দিনে একাধিকবার আপডেট তৈরী করে। কম্পিউটার ইন্টারনেটে সংযুক্ত থাকলে নিজে থেকেই সেগুলি ইনষ্টল হয়।
জনপ্রিয় এন্টিভাইরাস সফটঅয়্যারগুলির মধ্যে রয়েছে, MacAfee, Norton, AVG, Avast, Kaspersky, NOD32, Avira, Bitdefender, F Secure ইত্যাদি।

No comments:

Post a Comment