Tuesday, May 17, 2011

পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফির জন্য গুরুত্বপুর্ন বিষয়গুলি

অধিকাংশ মানুষ সুন্দর বাগান, সমুদ্র, পাহাড় এসবের ছবি উঠাতে পছন্দ করেন। কিন্তু বাস্তব সত্য তো এটাই, সবচেয়ে প্রিয় ছবি হচ্ছে পরিচিত কারো পোর্ট্রেট। পরিবারের কোন সদস্য কিংবা বন্ধু। কিছু বিষয় লক্ষ্য করে করে আপনি অনায়াসে পেতে পারেন ভাল মানের পোর্ট্রেট।

ঠিক যায়গায় ছবি উঠান
সাধারনত পোর্টেট ফটোগ্রাফিতে মুল ব্যক্তির দিকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়, ব্যাকগ্রাউন্ডের দিকে ততটা দৃষ্টি দেয়া হয় না। ভাল পোর্ট্রেটের জন্য ব্যাকগ্রাউন্ড গুরুত্বপুর্ন। ব্যাকগ্রাউন্ডে বৈচিত্র যত কম থাকে তত ভাল। একটি ইটের দেয়াল, সবুজ মাঠ কিংবা একরঙা পর্দা এগুলি ভাল পোর্ট্রেট ইমেজ তৈরী করতে পারে। বিপরীতভাবে অগোছালো ব্যাকগ্রাউন্ড ছবির সামঞ্জস্য নষ্ট করে। অগোছালো গাছের ডাল, ঘরের ফার্নিচার ইত্যাদি কম্পোজিশনে সমস্যা তৈরী করতে পারে। ছবি উঠানোর আগে ব্যাকগ্রাউন্ড দেখে নিন। হয়ত সামান্য কয়েকপা সরে গেলেই আরো সুন্দর ব্যাকগ্রাউন্ড পেতে পারেন।
ঘরে উচুমানের আলোর ব্যবস্থা না থাকলে যতটা সম্ভব  বাইরে ছবি উঠান। রৌদ্রজ্জ্বল দিন হোক আর মেঘলা দিনই হোক, ঘরের সাধারন লাইটের আলো থেকে ভাল ফল পাওয়া যাবে।

ক্যামেরা সেটিং ঠিক রাখুন
ক্যামেরা পোর্ট্রেট মোড বলে একটি সেটিং রয়েছে। এই মোড ব্যবহার করুন। পোর্ট্রেট এর জন্য ডেপথ অব ফিল্ড, সাটার স্পিড, এপারচার ইত্যাদি যাকিছু প্রয়োজন ক্যামেরা ঠিক করে নিবে। অনেক ক্যামেরাতেই ফেস ডিটেকশন রয়েছে। ক্যামেরা নিজে থেকেই মুখের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ফোকাস করবে। এছাড়াও অনেক ক্যামেরায় স্মাইল ডিটেকশন রয়েছে যা শুধুমাত্র হাসার সময় ছবি উঠাবে, ব্লিংক ডিটেকশন চোখ বন্ধ আছে কিনা যাচাই করে ছবি উঠাবে।
ফ্লাশের দিকেও দৃষ্টি দিন। ফ্লাশের জন্য ফিল ফ্লাশ বলে সেটিং থাকার কথা। যদি আপনার ক্যামেরায় থাকে তাহলে সেটা ব্যবহার করুন। এই সেটিংএ ছবি উঠানোর আগেই আলো তৈরী হয়, ফলে রেড আই নামের লাল চোখের সমস্যা এড়ানো যায়।

আলো ঠিকভাবে ব্যবহার করুন
ব্যক্তির মুখে আলো কোনদিক থেকে কতটুকু আসছে লক্ষ্য করুন। যদি পিছনে উজ্জ্বল আলো থাকে এবং মুখের ওপর আলো কম থাকে তাহলে ভাল ছবি পাবেন না। বাইরে ছবি উঠানোর জন্য সকালে এবং সন্ধ্যার আগে পাওয়া যায়, যখন আলোর প্রখরতা কম থাকে। দিনের মাঝামাঝি সময় ছায়ায় ছবি উঠাতে চেষ্টা করুন। ছায়ায় ফ্লাশ ব্যবহার করে মুখে আলো ফেলে ভাল ফল পাওয়া যাবে।
ফ্লাশের আলো কমবেশি করার ব্যবস্থা থাকলে দুরত্ব অনুযায়ী সেটা ঠিক করে নিন।

ফ্রেম পুরন করুন
আপনি যতটুকু উঠাতে চান ঠিক ততটাই ফ্রেমের মধ্যে রাখুন। চারিদিকের অতিরিক্ত যায়গা বাদ দিন। প্রয়োজনে কাছে যান অথবা জুম লেন্স ব্যবহার করুন।

হাসিমুখের ছবি উঠান, স্বাভাবিক ভঙ্গির ছবি উঠান
সরাসরি ক্যামেরার দিকে না তাকিয়ে অন্যকিছুর দিকে তাকাতে বলুন এবং হাসিমুখ করতে বলুন। তাকে তৈরী হতে সময় দিন। যতটা সম্ভব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে ছবি উঠান। কখনো কখনো দাত বের করা হাসির চেয়ে চোখের দৃষ্টি কিংবা অন্য কোন অভিব্যক্তি উচুমানের ছবি পেতে সাহায্য করে।

No comments:

Post a Comment